সংবাদ
Home » টাংগাইল » একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার ২ লাখ মানুষ

একটি সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার ২ লাখ মানুষ

কেউ তো আর আমাগো কষ্ট বুঝে না। কেউ কথা রাখে না। কাদের সিদ্দিকী এমপি অইলো কিন্তু আমরা সেতু পাইলাম না। তারপর শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি অইলো, তার পোলায় অইলো কো কেউ তো কথা দিয়া কথা রাখলো না। এহন জোয়াহের এমপি অইছে, এহন কি সেতু দিবো। ভোট নেওয়ার বেলায় অনেকেই অনেক কথা কয় কিন্তু কোন কাম করে না। আমাগো জন্মের পর থিকাই এই নদী দেখতাছি। কোন সেতু অয় নাই। অনেকটা ক্ষোপ প্রকাশ করেই কথা গুলো বললেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের করিম মিয়া।

নদীর এপার বাসাইল ওপারে সখীপুর। দুই পারের মানুষগুলোর মধ্যে গভীর সম্পর্ক। একই সংসদীয় আসন, শিক্ষা-দীক্ষা, বাজার-ঘাট, কেনাকাটা সবই হয় একসঙ্গে। তবুও সারাটা জীবন তারা দুই পারের বাসিন্দা। টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুর উপজেলাকে বিভক্তকারী বংশাই নদী। এ নদীর উপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন এ দুই উপজেলার প্রায় দুই লাখ জনসাধারণ। একটি মাত্র সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসেনি এখনো।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলেছে বংশাই নদী। বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদীর উপর কোন সেতু না থাকায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তির মধ্যে জীবন যাপন করছেন দু পাড়ের এলাকাবাসী। উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত সুন্না বাজার ঘেষে বংশাই নদীর উপর সখীপুর-বাসাইল সংযোগ সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন ওই অঞ্চলের জনসাধারণ। গ্রীষ্ম মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাকো আর বর্ষা মৌসুমে একটি খেয়া পারাপারই একমাত্র ভরসা এলাকাবাসীর। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী একটি হাট, একটি আলিম মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি কিল্ডার গার্ডেন স্কুল থাকায় প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের। আর তাদের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম বংশাই নদীর উপর বাঁশের সাকো অথবা খেয়া। অনেক সময় এই নদী পারাপারের জন্য বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ জনগনের। ইতিমধ্যে নদী পারাপারের সময় এক শিক্ষার্থী নদীতে পড়ে মারা গেছে। এছাড়াও ভারী কোন মালামাল, ভ্যান গাড়ি, মোটরসাইকেল পারাপারে অনেক বিপাকে পড়তে হয় এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্না বাজার ঘেষে বংশাই নদীর উপর স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে লোক পারাপার করছেন। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে নৌকায় পারাপার হতে হয়। বর্তমানে ওই সাঁকোটিরও নড়বড়ে অবস্থা। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ বাসাইল- সখীপুরের হাজার হাজার জনসাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করেন। এছাড়া হঠাৎ কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে রোগী বহনের কোনো যানবাহন পারাপারেরও ব্যবস্থা নেই। সখীপুর উপজেলার কাঙ্গালীছেও, দাড়িয়াপুর, যাদবপুর, বেড়বাড়ী, কৈয়ামধূ, প্রতিমা বংকী, শোলাপ্রতিমা, বোয়ালী, নলুয়া, হিজলীপাড়া, দেওবাড়ি, লাঙ্গুলিয়া, চাকলাপাড়া, সিলিমপুর, কালিয়ান গ্রামবাসীসহ উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়াও বাসাইল উপজেলার সুন্যা, গিলাবাড়ী, কলিয়া, কাউলজানি, মান্দারজানিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ ওই সড়ক দিয়ে পার্শ্ববতী সখীপুর উপজেলায় যাতায়াত করেন।

সখীপুর উপজেলার কাঙ্গালীছেও গ্রামের বাসিন্দা সুন্না বাজারের চাইন্ড স্টার এডুকেশন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাখিয়া ইসলাম নূর ওই সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় এ বলেন, ‘এই বাঁশের ভাঙা পুল (সাঁকো) দিয়ে হাটতে খুব ভয় করে। পানি বেশী হলে আমার আম্মু হাত ধরে পার করে স্কুলে দিয়ে যায়।’

বাসাইল উপজেলার সুন্না সম্মিলিত আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ডুবে যায়, প্রতিদিন মোটরসাইকেল এপারে রেখে ওপারে যাই। এ বিড়ম্বনা শেষ হবে কবে জানিনা।’

সুন্না এলাকার একেএম ছানোয়ার হোসেন, এম এ হেলাল, শফিকুল ইসলাম শাফী, নজরুল ইসলাম, মো: মিন্টু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, কবির মিয়া, মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাই আমাদের কষ্টের শেষ নেই। দুই উপজেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। কিন্তু বংশাই নদীর উপর কোন সেতু না থাকায় বাঁমের সাকো আর খেয়া একমাত্র ভরসা। শিক্ষার্থীরা ঠিকমত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এখন যে সাকো আছে তাও নরবরে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক জনপ্রতিনিধি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু কেউ কোন কথা রাখেনি। আমরা চাই আমাদের সুবিধার্থে সরকার অতিদ্রুত এই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করে দিবে। এটা হলে আমাদের জীবন যাত্রার মান অনেক বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে বাসাইল সখীপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ বলেন, আমি বাসাইলে নতুন এসেছি। বংশাই নদীর উপর সেতু করার জন্য প্রকল্প করে পাঠানো হয়েছে কিনা অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদি না পাঠানো হয় তবে এমপি মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। আর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রত্যেকটি গ্রাম হবে শহর। তারইধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি একটি সেতু হলে দুই উপজেলাবাসীর কষ্ট কমে যাবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-

About ARIFUL ISLAM

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*